Friday, 20 February 2015

পেট্রোল বোমার আগুন রক্ষার প্রযুক্তি উদ্ভাবন


আরিফুল ইসলাম, বাকৃবি :: বর্তমান রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রতিদিনই পেট্রোল বোমার আগুনে ঝলসে প্রাণ হারাচ্ছে অথবা পঙ্গু হচ্ছে সাধারন জনগন, বিশেষ করে গণপরিবহনের সাধারন যাত্রীরা। পেট্রোল
বোমার আগুন থেকে জীবন ও পরিবহন সুরক্ষিত রাখার কোন সহজ এবং কম মূল্যের প্রযুক্তি বর্তমানে নেই। সাধারনের জীবন রক্ষার্থে মানবতার স্বার্থে একটি সহজ কার্যকরি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারুক বিন হোসেন ইয়ামিন। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পেট্রোল বোমার আঘাত ও আগুন সফল ভাবে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। এতে আগুন যানবাহনের ভিতর ছড়াতে পারবেনা ফলে জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। একটি বড় বাসের জন্য খরচ হবে ৪০০-৫০০ টাকা মাত্র।
উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সম্পর্কে বারি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারুক বিন হোসেন ইয়ামিন জানান, প্রতিদিন পেট্রোল বোমার আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। অনেকেই পোড়া শরীর নিয়ে হাসপাতাল গুলোর বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছে। সেই ভয়াবহ চিত্র দেখে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার প্রয়াস থেকেই আমার এ প্রচেষ্টা। প্রযুক্তিটি সল্প খরচে এবং সহজে যে কেউই ব্যবহার করতে পারবে। গণপরিবহণে যাত্রীদের জন্য তিনি প্রথমে গাড়ির জানালার কাঁচের উপর এ পরীক্ষা চালনা করে সফল হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বারি চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে ইয়ামিন তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক ও প্রয়োগ পদ্ধতি তুলে ধরেন।
পরে খোলা মাঠে তিনি নিজে পেট্রোল বোমা ছুড়ে তার উদ্ভাবনের পরীক্ষা করে দেখান।
তিনি জানান, যানবাহনের জানালার কাচের দুপাশ তিন ইঞ্চি চওড়া স্বচ্ছ স্কচটেপ দিয়ে লেমিনেশন করে নিতে হবে, যা পেট্রোল বোমার আঘাতে জানালার কাচ ভাঙা ঠেকাবে এবং ভাংলেও কাচের টুকরা ভিতরে ছিটকে পড়া রোধ করবে। এটি পেট্রোল ও আগুন ছড়িয়ে পড়াও রোধ করবে। এটি ব্যবহারে পেট্রোল বোমার ক্ষতি ৭০ শতাংশ রোধ করা সম্ভব বলে ইয়ামিন মনে করেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে জানালার ভেতরে বিশেষ পর্দা ব্যবহার করা হয়।
স্টেশনারি দোকান থেকে চক পাওডার ও আঠা কিনে নিয়ে পানি মিশিয়ে কাই তৈরি করতে হবে। এরপর হার্ডওয়ারের দোকানে কাঠে বার্নিশ করার জন্য যে পাতলা জালি কাপড় পাওয়া যায় তার উপর ওই কাইয়ের প্রলেপ দিতে হবে।
পরে রোদে শুকিয়ে কাইয়ের প্রলেপযুক্ত কাপড় পর্দা হিসেবে ব্যবহার করতে হবে গাড়ির জানালার ভেতরে। কাইয়ের মিশ্রণটি তৈরি করতে এক কেজি চক পাউডারের সঙ্গে এক লিটার পানি ও ২৫০ গ্রাম আঠা বা গাম প্রয়োজন হবে। আর পরিমাণ বেশি প্রয়োজন হলে ওই অনুপাত ঠিক রেখে মিশ্রনটি তৈরি করে নেওয়া যাবে।
তিনি বলেন, বিশেষ পর্দাটি অতি উচ্চ শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ার কারণে নিক্ষিপ্ত পেট্রোল বোমার পেট্রোল বা অকটেন দ্রুত শুষে নেবে এবং এতে তেল কম ছড়িয়ে পড়বে। বোমার কিছু অংশ বাসের জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকলেও তা পর্দায় বাঁধা পাবে।
ইয়ামিন জানান, চক পাউডার (কার্বনেট) আগুনে কিছু জ্বলে সাময়িক কার্বন মনো-অক্সইড ও কার্বন ডাই-অক্সইড উৎপন্ন করে এবং আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলে। এ বিশেষ পর্দাটি দাহ্য নয় এবং অন্যকে জ্বলতেও বাধা দেয়।
এ সময় বারির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম মন্ডল, পরিচালক (গবেষণা) ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. রওশন আলী, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান, ড. মো. মিয়ার উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক রফিকুল ইসলাম মন্ডল বলেন, বারির এ তরুণ বিজ্ঞানীর উদ্ভাবনী শক্তি অনেক বেশি। যখনই কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তখনই তিনি সমসাময়িক ওই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করেন এবং একটা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ফেলেন, সেটা কৃষি ক্ষেত্রেই হোক আর কৃষিবহির্ভূত বিষয়েই হোক।
এর আগে ইয়ামিন সমুদ্র বা নদীতে ছড়িয়ে পড়া অনাকাঙ্খিত তেল শোষণের প্রযুক্তি, পানিতে ডুবে যাওয়া জাহাজ, নৌকা বা অন্য কোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয়ের প্রযুক্তি, মাটির আর্দ্রতা নির্ণয়ের প্রযুক্তি, এক টাকায় ফরমালিন পরীক্ষার প্রযুক্তি ও শাক-সব্জি ও ফল-মূল টাটকা রাখার জন্য মাটির ফ্রিজ উদ্ভাবন করেন। তরুণ এ বিজ্ঞানী দেশের কল্যাণে কাজ কওে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। খবর নয়াদিগন্ত।